সাভার ট্র্যাজেডি-২

এপ্রিল ৩০, ২০১৩

 

ফেসবুক থেকে নেয়া 

 

 আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমরা আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার ২য় ধাপটুকুও সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। আজ আমরা আগারগাঁওয়ের জাতীয় পঙ্গু হাসপাতাল এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে যাই। আজ যথারীতি আমার সাথে ছিল Mohimenul Islam Emru এবং নতুন দুই সঙ্গী Adnan Habib এবং Afif Haque.

এখানে বলে রাখা ভালো- প্রথম ধাপের পর অনেকেই আমার কাছে এসে সাভার যাবার জন্য অনুরোধ করেছে। অনেকেই আশ্বাস দিয়েছে যে পরের বার (২য় ধাপের সময়) যাবে- হিসেব মত ১০ জন এমন ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমি সময়মত তাদের কাউকেই পাই নাই। আর সাভার যারা যেতে চান- একবার ঘুরে আসতে পারেন। ওখানে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপই কেবলমাত্র বিদ্যমান, এখন সাভারে সেবাকারীর চেয়ে দর্শনার্থীর পরিমাণই বেশি। আর আমাদের প্রথম ধাপে যে লক্ষ্য ছিল তা আমরা পূরণ করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ্‌। এখন আর সাভার যাওয়াটা সমীচীন বলে মনে করছি না।

আজ কি দেখলামঃ

পঙ্গু হাসপাতালে নিরাপত্তা বলয় খুব শক্ত করেছে। সাভারে রানা প্লাজায় আহত রোগীরা ২য় তলার C-D তে অবস্থান করছে। আমরা চারজন একসাথে সেখানে প্রবেশ করতে না পারায় দু’জন করে প্রবেশ করি। নিরাপত্তাবাহিনী আমাদের বিস্তারিত সব এবং সাহায্যের পরিমান টুকে নেয়। এখানে C ওয়ার্ড শুধুমাত্র মহিলা আর D ওয়ার্ড শুধুমাত্র পুরুষ রোগী। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। আমাদের সাথে সেখানে অবস্থান করছিল বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের লোকজন এবং সাংবাদিকরা। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একে একে যারা খুব সিরিয়াস পর্যায়ের রোগী- দুইটি পা/ একটি হাত/ মেরুদণ্ডে ফ্রেকচার/ মাথায় আঘাত তাদের ও তাদের পরিবারের সাথে কথা বলতে থাকি। খানে অবস্থানরত বেশিরভাগ রোগীদের অবস্থা এনাম মেডিকেল এ অবস্থানরতদের তুলনায় ভাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী এবং তাদের পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছে দেখে ভালো লাগলো। রোগীর পরিবারের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম তারা এই চিকিৎসায় সন্তুষ্ট।

army2

আহতদের মধ্যে মহিলা আর শিশুর সংখ্যাই বেশি। আমরা আমাদের পরিচয় দিয়ে তাদের পরিবারের সাথে কথা বলে আমাদের সাহায্য তাদের কাছে পৌঁছে দিই। কিছু ঘটনা দেখে খুবই খারাপ লেগেছে- মা দু’পা হারিয়ে বিছানায় শুয়ে আছে আর নিচে ফ্লোরে দুধের বাচ্চা শুয়ে আছে। মা এজন্য অনবরত কেঁদে চলেছেন। এক বৃদ্ধ মহিলার সাথে কথা হল- তার মেয়ে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা আটকে ছিল, তার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে সেই সাথে এক পা এক হাত হারিয়েছে। আরেক পায়ে ফ্রেকচার হয়েছে দুইবার অপারেশনের পরেও ঠিক হচ্ছে না। সাহায্য দিয়ে চলে আসার সময় রোগী কিছু বলছিলেন তার পুরোটা আমি শুনি নাই। কিছু শুনেছি কাছে গিয়ে- বাবা আল্লাহ তোমাদের মঙ্গল করুক… আমার কোন ছেলে নাই তোমরা আমার ছেলের মতই…. আমরা সেইসময় কি বলব সত্যি বুঝে উঠতে পারি নাই। ওনার অবস্থা খুবই সিরিয়াস ছিল। ইনশাআল্লাহ ভালো যাবেন- এটুকু বলেই সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন ভাষা ছিল না। চারদিকে শুধুই দেখেছি তাদের পরিবারের হা-হুতাশ। এক রোগির হুইলচেয়ার কিনে দেবার ইচ্ছে করেছিলাম আমিয়া র আফিফ। পরে তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানতে পারি কোন এক সংস্থা তাদের একটি হুইলচেয়ার দিয়েছি। অনেকেই আগেরদিন এনাম থেকে পঙ্গুতে শিফট হয়েছে। আমাদের লিস্ট থাকার সুবিধার্থে আমরা সহজেই অবস্থা বুঝে সিরিয়াস রোগীদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ্‌।

Savar-Tragedy-Deaths-of-labourers-and-the-death-knell-of-economy-by-Rashid-Askari

আজকে আমরা তহবিল থেকে মোট ১৩০০০ টাকা সাহায্য দিয়েছি আহতদের।

যেহেতু আমাদের তহবিলের এখন অনেক বড় অংশ বাকি, আমরা আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে রুপ দেওয়ার ইচ্ছে পোষণ করছি।
পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে আছে নিহত কর্মীদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সাহায্য বিতরণ করা। এখন পর্যন্ত সেটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে যে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমরা সাভারে অবস্থানরত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাথে কথা বলেছিলাম। তারা মৃতদের একটি বিস্তারিত তালিকা প্রায় প্রস্তুত করে ফেলেছে। আমরা তাদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছি সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য। তারা শিগ্রই প্রেসব্রিফিংএর মাধ্যমে সেটি অবমুক্ত করবে, তারপর আমরা আমাদের পরবর্তী ধাপের জন্য অগ্রসর হব ইনশাআল্লাহ।

m10

অবস্থার বিবেচনাসাপেক্ষে আমরা প্রয়োজনে আর সাহায্য সংগ্রহ করব। এখনো আমাদের কাছে সাহায্য আসছে। আমাদের বিকাশ নম্বরটি এখনো চালু রয়েছে। bKash no: 01717838371 যারা পাঠাতে চান তারা এখনো পাঠাতে পারেন। পাঠানোর পর আমাকে ইনবক্স করতে ভুলবেন না।

সবশেষে MIST এর সকলকে আবারো জানাই অশেষ ধন্যবাদ। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা আমাদের পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারি ইনশাআল্লাহ 🙂 

সাভার ট্র্যাজেডি -১

এপ্রিল ২৯, ২০১৩ 

ফেসবুক থেকে নেয়া 

 

আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমরা আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার প্রথম ধাপটি সম্পন্ন করতে পেরেছি। এজন্য MIST এর সকল ছাত্রছাত্রীকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ। সাথে সাথে অনেক সিনিয়র যারা আমাদের সাহায্য দিয়ে এই প্রয়াসটিকে গতিমান করেছেন।
আমরা আমাদের এই প্রচেষ্টাটি বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি চলবে আগামী ১ মে, বুধবার পর্যন্ত।
সর্বপ্রথমে যার কথা স্মরন করব সে হল সিই-১২ এর Mohimenul Islam Emru। আমার এই প্রাক্তন রুমমেট বন্ধু প্রথম এমন কিছু করার প্রস্তাবনা দেয়। সাথে সাথে আমিও রাজি হয়ে যাই। সেই সঙ্গে যাদের কথা বিশেষ করে স্মরন করতে হয়-

CE Dept: Rezwanur Rahman, Zannatul Ferrdous Sumi, Saadman Sakib

EECE Dept. Samia Qucer Asha, Twinkle Mitu, Shahriar Istiak, Rizal Fathony Kabir, Zannatul Ferdous, Rowshon Ara Mannan. Manjila Tahsien Mou, Muntasir Ahmed Nasif.

CSE Dept. তাসমিয়াহ তামজিদ অনন্যা, Emotionless Shumon, Mehedi, Rownok Prima, Arnob roy

AE Dept: Asma Tabassum, Faisal Ahmed Pomi, Mohammad Shafique, Afif Haque

Name Dept. : Azharul Hannan.

ME: Chowdhury Raihan Uddin

(নেট স্লো হবার কারনে ট্যাগ করে দিতে পারলাম না সবাইকে  )

সংগ্রহকৃত তহবিলের পরিমাণ: 97885 tk (আজ দুপুর পর্যন্ত ছিল)
বর্তমান তহবিলের পরিমাণ: 103915 tk. (আরও যোগ হচ্ছে এতে)

আজ কি করলামঃ

আমরা চারজন- ইমরু, সজীব, হান্নান এবং আমি, আজ সাভারে ঘটনাস্থল রানা প্লাজায় যাই। সামরিক সদস্যরা পুরো এলাকা খালি করে দিয়েছে ততক্ষনে। গেনডা থেকে প্রায় এক কিলো রাস্তা বন্ধ, হেঁটেই যেতে হয়েছে। মানুষের ঢল দেখেছি। রানা গ্রেফতারের ঘটনা শুনে মানুষের ফেটে পড়া ক্ষোভ দেখলাম। এরপরে আমরা সাভার এনাম মেডিক্যালে যাই। এখানে বিশেষ ধন্যবাদ দিব Rosi Ranan কে। ওর সাহায্যে আমরা ওখানকার মেডিক্যাল স্টুডেন্টদের সাথে পরিচিত হই এবং আইসিইউতে প্রবেশের অনুমতি পাই।

13.-IMG_11961

আইসিইউতে যারা ছিল বেশিরভাগ খুবই সিরিয়াস রোগী। কার হাত নাই, কার পা নাই। কার হাত-পা সবই চলে গেছে। অনেকে অচেতন অবস্থায় ছিল। কেউ কেউ ব্যথায় কাতরাচ্ছে। যা দেখলাম এককথায় অবর্ণনীয়। কেউ ওখানে না গেলে বুঝবে না। যারা এতদিন একটি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাই ছিল, আজ তারাই পঙ্গু। আমরা একে একে প্রায় সব রোগীর পরিবারের সাথে কথা বলি, তাদের অবস্থার খোঁজখবর নিই। অনেকে তিনদিন আটকে ছিল, আজ বিকেলে উদ্ধার করা হয়েছে এমনের সংখ্যাই বেশি ছিল। আমরা আমাদের পরিচয় দিয়ে তাদের পরিবারের হাতে আমাদের সাহায্য পৌঁছে দিই। আজ অনেকেই আমার সাথে হতাহতের তালিকা ফেসবুকে শেয়ার করেছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো খবর হল- আমরা তাদের সবাইকেই সাহায্য করতে পেরেছি।

bk0120

আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম হবে-

১. নিহত কর্মীদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সাহায্য বিতরণ করা। আমরা ইতিমধ্যে সেখানে অবস্থানরত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাথে কথা বলেছি। তারা মৃতদের একটি বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করছে। তাদের সেটি প্রস্তুত করা মাত্রই আমরা আমাদের পরবর্তী ধাপের জন্য অগ্রসর হব ইনশাআল্লাহ।

২. পঙ্গু হাসপাতালে অবস্থানরত রানা প্লাজার আহত ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক সাহায্য বিতরণ করা।

m10

আজ আমরা আমাদের সংগ্রহকৃত তহবিলের মধ্যে ৪১,০০০ টাকা বিতরণ করেছি। অবস্থার বিবেচনাসাপেক্ষে আমরা প্রয়োজনে আর সাহায্য সংগ্রহ করব। আমাদের বিকাশ নম্বরটি আর দশদিনের জন্য খোলা থাকবে। কেউ যদি সাহায্য পাঠাতে চান, পাঠাতে পারেন এখনও। সাহায্য পাঠানোর পর অবশ্যই আমাকে ইনবক্স করতে ভুলবেন না।

সবশেষে MIST এর সকলকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা আমাদের পরবর্তী ধাপগুলোও সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারি ইনশাআল্লাহ