বস্তু ও পরাবস্তু বিষয়ক ভাবনা (পর্ব-৩)

৩.

১ নং পর্বের শেষভাগে একটা কথা বলেছিলাম- আমাদের মানুষদের ক্ষমতা পরাবস্তুজগতে, কিন্তু আমরা তা জানি না। বস্তুজগত নিয়ে আমরা মেতে আছি। একটা কথা কি বিশ্বাস করেন- আমরা যদি পারি তাহলে পরাবস্তু সৃষ্টি করতে পারি! অনেকে বলবেন- এটা অসম্ভব। আমি বলব- এটা অবশ্যই সম্ভব। আমাদের মানুষের রয়েছে চিন্তা ও অকল্পনীয় কল্পনা করার ক্ষমতা, তা কিন্তু বস্তুজগতের অন্য কোন বস্তুর নাই। এই কল্পনা দিয়ে কি আমরা একেকটা জগত সৃষ্টি করতে পারি না? পারি। আপনি যদি এক্তু কল্পনা করে দেখেন দেখবেন আপনিও একেকটা জগত সৃষ্টি করে ফেলেছেন! বস্তুজগতের অনেক কিছুই কিন্তু আপনি স্বপ্নে দেখেন। স্বপ্নের সাথে কি বাস্তবের মিল আছে? নাই। বাস্তব বলতে বস্তুজগতকে বুঝিয়েছি এখানে। স্বপ্নে বা কল্পনায় পারলে আপনি নতুন একটা জগত সৃষ্টি করতে পারেন। যেখানে আপনি আছেন এবং আপনার চিন্তায় প্রভাব ফেলা মানুষগুলো আছে আপনার পাশে। যেমন এখন আপনি কল্পনা করছেন ‘আপনি সমুদ্রতটে হাঁটছেন। রবি ঢলে পড়েছে পশ্চিমদিকে। সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকতে। সে শব্দ আপনি শুনছেন। একটা বিমান আকাশ দিয়ে উড়ে গেল। যে বিমানটা একটু আগেও ছিল না সেটা চলে এসেছে আপনি বিমানের কথা কল্পনা করেছেন বলেই। পিছনের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে আপনি যেটা দেখতে চাইছেন সেটাই পারছেন- পাহাড়-পর্বত দেখতে চাইলে দেখছেন, তার জায়গায় পারলে শহর বসিয়ে দিতে পারছেন।’ বলতে গেলে ইচ্ছেমত আপনি কল্পনা করতে পারছেন। আপনি যে কল্পনা করছেন তা-কি সময় ধরে ধরে করছেন? না। আপনি যখন কল্পনা করেন তখন সেখানে সময় থাকে অনুপস্থিত। মনে হয় যেন অফুরন্ত সময় আছে কিংবা সময় স্থির। তাই না? আপনার কল্পনার বস্তুগুলো বাস্তবে থাকলেও আপনি তাদের নিয়ে গেছেন নিজের কল্পনাতে। তাই সেগুলো বাস্তব হলেও প্রকৃতপক্ষে বাস্তব নয়! পরাবাস্তব বলা যায়। তাহলে আপনি কি একটা জগত সৃষ্টি করলেন না? পরাবাস্তব জগত। এই যে ক্ষমতা তা একমাত্র মানুষই পারে। বস্তুজগতে অবস্থান করে পরাবাস্তব জগতের কল্পনা করা।

একটু সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করুন তো, এই যে আপনি বসে বসে সম্পূর্ণ নিজস্ব কল্পনায় আরেকটা জগত তৈরি করে ফেললেন যা বস্তুজগতে অবস্থান করে। ঐ জগতে কিন্তু আপনি নিজেকে কল্পনা করেছেন,(চাইলে পারেন, না চাইলে থাকবেন না)। তার মানে কি দাঁড়ায়- কল্পনার পরাবাস্তবজগতে যেমন আপনি আছেন, তেমনি বাস্তব জগতেও আপনি আছেন! হোক না সেটা কল্পনার তারপরেও তো সেটা আপনি বা আপনার Projection. তাহলে এক্ষেত্রে তো সূত্রটা মিথ্যে হয়ে গেল। বস্তুটা হলেন আপনি, একই সময়ে একইসঙ্গে দুইটা স্থান দখল করলেন!

যখন বস্তুজগত আর আপনার (কল্পিত) পরাবাস্তব জগত সমান্তরালে আসবে তখন কি ঘটবে? ভেবে দেখেছেন। আপনি দরজার এপারে দাঁড়িয়ে আর ওপারে আরেকজন আপনি। একটু চিন্তা করে দেখুন তো! মাথায় জট পাকিয়ে যাচ্ছে নিশ্চয়ই। চিন্তা করতে পারছেন না। সারা শরীর শিহরিত হয়ে উঠছে। সেটাই স্বাভাবিক। নিজের সাথে নিজের দেখা হওয়ার ঘটনাটা কেমন? খুবই আনন্দের কোন ব্যাপার কি? না, আনন্দের কোন ব্যাপার না। এর বেশি কিছু আমরা কল্পনাই করতে পারি না। পরাবস্তুজগত জিনিসটা এরকমই। বেশি কিছু কল্পনা ও চিন্তা করা যায় না। আর বেশি চিন্তা করব কিভাবে? ঐ যে আগেই বলেছিলাম- আমাদের মূল ক্ষমতা পরাবস্তুজগতে, আর আমরা মেতে আছি বস্তুজগত নিয়ে।

                                  “Everybody is very much

                                     Enjoying in this short-timed world

                                      But nobody know-

                                       My destiny is next world.”   

*সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তাধারায় লেখা। এইরকম কিছু আগে কেউ ভেবেছিল কিনা জানিনা কিন্তু আমি মনে করি আমিই সর্বপ্রথম।*

——[Please do not use this writing without my permission]——-

© All rights reserved by

█║▌█║▌║▌║║█║▌║║│█│║▌║││█│║▌║│█│║

Md. Adib Ibne Yousuf [adib10mist@gmail.com]

চারপাশের পরিবেশ ও নিজস্ব কিছু কথা

১৯ টি বসন্ত পেরিয়ে ২০ এ পা দিব আর কয়দিন পর। কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম আমি এই ১৯ টি বসন্তকে নিয়ে পর্যালোচনা করব। কত কিছু দেখলাম, কত কিসিমের মানুষ দেখলাম- সব লিখবো। কয়দিন ধরে মনের মধ্যে একধরনের ভয় দানা বাঁধতে শুরু করেছে, নিজের কয়েকটি সাম্প্রতিক লেখার উপর এর প্রভাব পড়েছে আবার। বারবার আমার মনে হচ্ছে, এই যে ২০ টি বসন্ত পাড়ি দিলাম, ভবিষ্যতে বোধ হয় এইরকম আরেকটি ২০ বসন্ত উদযাপন করতে পারব না। তাই নিজেকে মূল্যায়ন করতে বসে পড়লাম আর বাকি যে কয়টা বছর আছে তাতে কি করা যায় তার পরিকল্পনা করা শুরু করলাম। আমার চারপাশের পরিবেশ নিয়ে বলার আগে আপনাদেরকে আমার নিজের সম্পর্কে একটু ধারণা দিই। আমি মানুষটা আমার চোখে কি রকম? কোন রকম বাড়িয়ে বলব না যেমন, তেমনি কোন জিনিস গোপন ও করবনা।

আমি মানুষটা একটু স্বপ্নবিলাসি টাইপের। প্রচুর স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি, কিন্তু বাস্তবে তা বাস্তবায়ন খুব কমই হয়। আমি কল্পনা করতে ভালোবাসি। আমি মনে করি যে এই যে আর কয়টা দিন বাঁচব, সেই দিনগুলিতে আমি এমন কিছু করে যেতে পারব যা দিয়ে পৃথিবীবাসীর উপকার সাধন হবে, আমার দেশেরও উপকার হবে। আমি যখন থাকব না তখন আমার কর্ম দেখে মানুষ আমাকে স্মরন করবে- এটাই আমি চাই। আমার একটা Wildest Dream আছে আর তা হল- বিখ্যাত টাইপের একজন বিজ্ঞানী হয়ে দেশের জন্য একটা নোবেল নিয়ে আসা। তা যেকোনো বিষয়েই হতে পারে। এমন এক জিনিস আবিষ্কার করব যা আগে এই মর্ত্যবাসী চর্মচক্ষে দেখে নাই। বলছিলাম স্বপ্নের কথা, এবার বলি কল্পনার কথা। এই কল্পনার পিছে পিছে আমার মাথায় সর্বদা ঘোরাফেরা করে Innovative সব Idea. যখন ক্লাস সেভেনে পরি, তখন একদিন এক বন্ধু আমাকে একটা জিনিস দেখায়- বলতে পারি ওইটাই আমার সবকিছুর শুরু। আমার পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিলনা, আমার ঐ বন্ধুর প্রস্তাবে কাজে লেগে পরি। কয়দিনের মধ্যেই ওইটাকে আরও develop করি। নতুন কিছু বানিয়েছি এই আনন্দে তখন আমি ও আমার সেই বন্ধু দিশেহারা। স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের প্রধানের কাছে নিয়ে গেলাম ওইটার একটা Model- Practically করে দেখালাম ওনাকে। স্যার আমাদের হতাশ করে বললেন, ‘কোত্থেকে এটা তুলে নিয়ে এসেছ, এটা তো অনেক আগেই হয়ে গেছে’। এর পর আমি এটার সম্পর্কে জানতে পারি উচ্চমাধ্যমিকে। জিনিষটার নাম ‘হুকের সূত্র’! আমি কিন্তু হতাশ হইনি। সেদিন ঐ ঘটনা আমার মধ্যে রোপণ করেছিল ‘নতুন কিছু আবিষ্কার’ এর বীজ।

শুধুই তো গুণের কথা বলছি এইবার আমার কিছু দোষের কথা শুনুন। আমার একটি বদভ্যাস হল আমি কোন একটা জিনিস শুরু করলে ওইটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওইটার পিছে লেগে থাকি। অমানুষিক পরিশ্রম আর কি! যেটা দেখি আমার আয়ত্তের বাইরে সেটা নিয়ে আর আগাই না।  এই কারণে আমি সেভেনের ঐ মডেল টা ৪ সপ্তাহে দাঁড়া করাতে পেরেছিলাম। যেটা ভাল পারি- সেটা খুব ভাল পারি, আর যেটা বুঝিনা সেটা পারিই না। আর খুব পরিশ্রম করতে পারি আমি। এর অনেক দৃষ্টান্ত আছে আমার স্কুল আর কলেজ লাইফে। অনেক প্রফেসর বলেন সবার মেধা সমান না। আমি এইটা বিশ্বাসই করি না। আমি কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী। আর মেধা বলে যদি কিছু থেকেও থাকে, আমি মনে করি মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে সেটা সমানভাবে দিয়েছেন। আমরা কেউ সেটা কাজে লাগাতে পারছি, আর কেউ কেউ পারছিনা। আমি উচ্চমাধ্যমিকের পর একবার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছুদিন ছেলে-পেলেদের পড়িয়েছিলাম। দেখলাম তাদের মধ্যে আমার মত সমমেধা রয়েছে- ওরা পরিশ্রমও করে। কিন্তু পারছেনা কেন? আমি বলব- কোন কাজে সাফল্যের জন্য লাগে সহায়ক পরিবেশ। ওরা আমাদের মত শিক্ষার পরিবেশ পাচ্ছেনা  বিধায় এগুতে পারছেনা।

আপনারা হয়ত একটু খেয়াল করে দেখেছেন- আমি লাফিয়ে লাফিয়ে এক জায়গা হতে জায়গা থেকে চলে যাচ্ছি। লেখে যাচ্ছি। এটা আমার একটা দোষ। বলতে পারেন- যা মাথায় আসে তাই লিখে ফেলি। একটু মুক্ত টাইপের কথাবার্তা বলি। আমার স্মৃতিশক্তি আবার একটু কম। এজন্য যা মনে চায় তাই লিখে ফেলি। যেদিন রাতে স্বপ্ন দেখি সকালে ঘুম থেকে উঠেই তা মনে থাকতে থাকতে আমার একটা ডায়েরী আছে ওটাতে লিখে ফেলি। Hobby বলতে পারেন। আরও কিছু আছে যেমন- ছবি আঁকা, অবসরে জাফর ইকবাল স্যারের সাইন্স ফিকশন বই পড়া, গল্প লেখা। প্রচুর গল্প ও কবিতা লিখেছি এককালে, খাতার পর খাতা। মা সব পড়তেন আর বলতেন, ‘কি ছাইপাশ লিখিস এইসব’! ওইসব গল্পের খাতা মা ফেলে দিয়েছেন- এখন কোথায় আছে কে জানে? মাঝে মাঝে অনেকে বলে- আমি নাকি ভাল লিখি! মাও বলেছেন। এর একটা ভাল স্বীকৃতি পেয়েছি কলেজে থাকতে। আমার এক বন্ধুর বাবার বন্ধু হলেন জাফর ইকবাল স্যার। বন্ধুর বদৌলতে একদিন দেখা হয় ওনার সাথে। মেলে ধরেছিলাম আমার গল্পের খাতা ওনার সামনে। ভাবছিলুম উনিও হয়ত বলবেন,‘কি ছাইপাশ লিখো এইসব’! না, উনি আমাকে অবাক করে দিয়ে বলেন ‘আদিব, বেশ ভাল হয়েছে লেখাগুলো, চালিয়ে যাও, ভাল করবে সামনে’। এর চেয়ে বড় আর কিছু লাগে নাকি? এটাও আমাকে ভালই উৎসাহ দেয়। আরেকটা বদভ্যাস হল প্রচুর ঘুমাই। একবার ঘুমাইলে আর উঠতে পারিনা। সামনে যদি বোমাও পড়ে তারপরেও মনে হয়, আমার ঘুম ভাঙবেনা। প্রিয় বিষয় হল গণিত, পদার্থবিজ্ঞান আর জ্যোতির্বিদ্যা। ছেলেবেলায় গনিতে খুব কাঁচা ছিলাম। ঐ যে বলেছি লেগে থাকি পিছে, আমি গনিতের পিছে লেগেছিলাম। একবার গনিতে ফেল করি, তো পাস করার জন্য পরের টার্মে লাগে ৯২ নম্বর। ফাইনালে আমি কত পেয়েছিলাম জানেন? ৯৬। সেদিন ক্লাস টিচার আমাকে সবার সামনে দাঁড় করিয়ে বলেছিলেন ‘পরিশ্রম করলে যে ফসল ঘরে তোলা যায়, আদিব তার জ্বলন্ত প্রমাণ’। সেইদিন আমার দুচোখ বেয়ে আনন্দের অশ্রুধারা নেমেছিল। আমার পছন্দের মানুষ হল যে আমাকে ভাল বুঝে, আমার সমালোচনা করে আর আমায় ভালোবাসে। আমার বন্ধু সংখ্যা অনেক, যার সাথে মিশি তাকেই বন্ধু বলে গননা করি। কিন্তু ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে হাতেগোনা কয়জন। তারা আজ অনেক দূরে কিন্তু আমাদের বন্ধুত্তের বন্ধন কিন্তু ভাঙ্ঘেনি।  কয়েকজন আবার আমার আশেপাশেই আছেন, তাদের কথা নাই বললাম।

যখন কলেজে পড়ি তখন মাথায় চেপে বসে এক ভূত, নাম তার String Theory. সাথে সাথে সময় নিয়ে কত যে চিন্তাভাবনা। কলেজে আমার এক প্রিয় প্রফেসর ছিলেন- তার সহায়তায় কতগুলো ভাল ভাল লিংক পেলাম। শুরু হয়ে যায় এটা নিয়ে ‘গো+এষনা’। মাথা খারাপ যাকে বলে, একদিন তো বন্ধু বলেই ফেলল- ‘আরে আদিব তুই তো নোবেল পেয়ে যাবি রে’। ও ওটা ঠাট্টা করে বলে নাই, ওর চোখে দেখেছিলাম Seriously বলেছে ও। নাহ, সময় নষ্ট হয় নাই, কত কিছু শিখলাম। আমি মনে করি, আমি দুনিয়ায় এসেছি শিখতে। জ্ঞান অর্জন করতে। আমি মনে করি আমার মধ্যে আছে Theoretical Power, Practically খুব কমই apply করতে পেরেছি আমি। এই প্রয়োগ কিভাবে করতে হয় এটাই আমি শিখছি আশেপাশের পরিবেশ থেকে, মানুষের কাছ থেকে। নিজেকে সৎচরিত্রবান বলতে পারবে এইরকম খুব কম লোক আছেন এই সমাজে। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, আমি এখন পর্যন্ত সৎভাবে যেমন চলতে চেয়েছি, মহান আল্লাহ আমাকে তার তৌফীক দিয়েছেন। চোখের সামনে অন্যায় হতে দেখলে রুখে দিই তা। খারাপ কাজ একেবারেই দেখতে পারিনা, আশেপাশের অনেক মানুষ আছে যারা আমার চেয়ে ক্ষমতাবান, তারা যখন অন্যায় করে তখন সাধ্যমত প্রতিবাদ করতে চেষ্টা করি। সবসময় মধ্যপন্থা অবলম্বন করি।

প্রিয় ডায়লগ হল ‘নিজেকে আগে ভালবাসতে শিখো, তারপর অন্যকে ভালবেসো’। আমি নিজেকে খুবই ভালোবাসি। পরিবার, বন্ধুবান্ধবদেরও খুব ভালোবাসি। যে সব লোক অপরের অনিষ্ট করে বেরায় তাদের দেখতেই পারি না।  অনেকে আছে মুখে এক কথা ভিতরে ভিতরে খুব খারাপ- এইসব পাবলিকদের তো দেখতেই পারিনা। সমাজে এইসবের সংখ্যাই বেশি। কিছু মানুষ আছে যাদের মুখে লাগাম নাই, যেখানে সেখানে উল্টা পাল্টা বলেই যাচ্ছে, বলার সময় খেয়ালই নাই যে তার আশেপাশের মানুষ তাকে নিয়ে কি ভাবছে? নিজেকে মহান ভেবে দোকানের দোকানদার কিংবা রিকশাওয়ালার সাথে এরা খারাপ ব্যবহার করছে, ওর বিন্দুমাত্র ধারণা নাই যে ওদেরও একটা সত্ত্বা আছে তোমার মত। যাকে পাচ্ছে তাকে ধরে গালিগালাজ করছে, প্যাঁচ লাগাচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমার সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন কেউ পরিবার নিয়ে প্রশ্ন তুলে, তাদের কি মনে থাকেনা যে তারও একটা পরিবার আছে- বাবা-মা আছে, আছে ভাই-বোন। রাস্তায় একটি মেয়ে হেটে গেলেই তার দিকে কুদৃষ্টি দেয়। আমি বলি- ওরে অধম তোর ঘরে কি ছোট বোন নাই, ওর কথা চিন্তা করলেই তো হয়। এইসব কুপ্রবৃত্তি জাগেনা। তোমার বোনকে যখন কেউ এমন করবে, কেউ তোমার মত করে চিন্তা করবে, তখন তোমার কেমন লাগবে? ফেসবুক হল সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম। সেখানেও এইসব চলে। নানান ধরনের পেইজ খোলা হয়েছে সেখানে, নানা ধরনের আপত্তিকর ছবিও আছে। Honestly speaking আমিও তাতে ঢু মারি, দেখি সমাজটা কোনদিকে যাচ্ছে। আমাদের মা-বোন দের নিয়ে যে কি করছে তারা, কল্পনাতীত। সাথে সাথে সমালোচনা করব ঐ সব ফেইক আইডির, যারা মেয়ের ছবি দিয়ে রাখে, কিন্তু বান্দা হলেন ছেলে। ধিক! তাকে। কত শত কমেন্ট পড়ে সেখানে, আমরা কিন্তু পড়ে পড়ে ঠিকই মজা লুটি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি কাজ তা কি সঠিক? তাই পাঠকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, don’t like those pages. আর নিজেকে যে বড় মনে করে সে কিন্তু কখনোই বড় হতে পারবেনা। আমার আশেপাশেই এইসব লোক ছড়িয়ে আছে।

সমাজে যেমন খারাপ আছে, তেমন আছে ভাল লোক- সাদা মনের মানুষ। তারা ভাল কাজ করছেন, করবেন। মানুষের পাশে এসে দারিয়েছেন তারা। অনেকে আছে খুব সহজ সরল, তাদের দিক বিভ্রান্ত করছে ওইসব খারাপ লোক গুলো, demoralize করছে, আবার কখন বাঁশ দিচ্ছে। তারপরেও কিন্তু ভাল যারা তারা পিছপা হয়না। তারাই পারবেন আগামীর সুন্দর কলুসমুক্ত সমাজ গড়তে।

অনেক কথা লিখলাম। অনেক কথা চেপে ছিল এতদিন। বের হয়ে গেল। আর কয়দিন বাঁচব জানিনা, কিন্তু এমন কাজ করে যেতে চাই যাতে ভবিষ্যতে মানুষ আমাকে মনে রাখে। আমি আমার আশেপাশের বন্ধুদের অনেক ভালোবাসি, তাদের জন্যই তো বেঁচে আছি, লেখে যাচ্ছি। আর যতদিন বেঁচে থাকব তাদের ভালোবাসা বুকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

সবশেষে বলি বন্ধুরা সর্বদা নিজেকে ভালবাসবে, মানুষকে ভালবাসবে আর আমাদের এই প্রিয় দেশটাকে ভালবাসবে।

 

বস্তু ও পরাবস্তু বিষয়ক ভাবনা (পর্ব ২)

আগেই বলেছি পদার্থবিজ্ঞানে একটা সূত্র আছে- ‘একটি বস্তু একই সঙ্গে দুটি স্থান দখল করতে পারেনা।‘ এর মানে হল একই ধরনের বস্তু বা অভিন্ন একটি বস্তু একই সময়ে দুই জায়গায় থাকতে পারেনা। বস্তুজগতে যে আপনি আছেন, একই সময়ে পরাবস্তুজগতে আপনি থাকতে পারবেন না। এই সূত্রটি খাটছে তাহলে অভিন্ন একটা বস্তুর ক্ষেত্রে, ভিন্ন বস্তুর ক্ষেত্রে নয়। তাহলে কি দাঁড়ায়- বস্তুজগতে যে আমি থাকি আর পরাবস্তুজগতে আপনি আছেন- দুজন কি একই জিনিস না? Same but same characteristics না। সুত্রের ক্ষেত্রে ‘একটি বস্তু’ বলতে একই ধর্মের অভিন্ন বস্তুর কথা বলা হয়েছে।

আগে বলেছিলাম একটা কথা- মাঝে মাঝে অনেকে দাবী করেন তারা অমুক মৃত ব্যাক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন। তখন আলোচনার অবস্থানের নিমিত্তে টা হেলুসিনেশন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন এটা সঠিক বলে মানতে আমি রাজি। কিন্তু কেন? এটা জিজ্ঞেস করার অধিকার আছে আপনার। কারনটা হল ঐ যে সূত্র কি বলে- ‘‘একটি বস্তু একই সঙ্গে দুটি স্থান দখল করতে পারেনা।‘ সূত্র যদি সত্য হয় তাহলে তারা যা দেখেছেন তা সত্য। তারা তো আর তাদের মত কাউকে দেখেননি, দেখেছেন মৃত ব্যাক্তির আত্মা মানে পরাবস্তুকে। এই ঘটনা কখন ঘটে? যখন Parallel Universe এর মত ঘটনা ঘটে। এখন হয়ত আপনার মনে প্রশ্নের উদয় হচ্ছে এটা আবার কি? তাহলে বলি- বস্তুজগত আর পরাবস্তুজগত যখন একই সময়ে সমান্তরালে অবস্থান করে তখন এই জাতীয় ঘতনার উদ্ভব হয়। তখন পরাবস্তুজগতকে বস্তুজগতের সাপেক্ষে Parallel World বলে। আর উভয়ে মিলে তৈরি করে ‘Parallel Universe’। তাদের জগত আর আমাদের জগত সমান্তরালে আসে বলেই আমরা হঠাৎ তাদের দেখা পেয়ে যাই। আগে বলেছিলাম পরাবস্তুজগত হল মাত্রাহীন, তাহলে কিভাবে আমরা তাদের দেখতে পাই? প্রকৃতপক্ষে যখন বস্তু ও পরাবস্তুজগত Parallel এ চলে আসে তখন পরাবস্তুর উপর উপরিপাতিত হয়। সোজাসাপটাভাবে বললে Projection বা প্রতিবিম্বের মত জিনিস create করে। এজন্য মাত্রাহীন পরাবস্তুকে আমরা তখন মাত্রাসহ দেখতে পাই। অবশ্য সবাই পারেনা। পরাবস্তু বস্তুজগতের উপর সমান্তরালে অবস্থানকালে বস্তুজগতের উপর একটা যখন effect field (প্রভাবক্ষেত্র) create করে। এই field এর আশেপাশে যারা থাকে তারাই কেবল পরাবস্তুদের দেখতে পায়। বাইরে যারা থাকে তারা পায় না। আর এজন্যই তাদের কথা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

ধর্মগ্রন্থ হতে পাওয়া angel, djin, fairy ইত্তাদির নাম আমরা শুনেছি। কেউ বিশ্বাস করি, কেউ কেউ করি না! মাঝে মাঝে শোনা যায় জীন কারো উপর আছর করেছে অথবা পরী ধরে নিয়ে গেছে। আসলে main জিনিসটা হল জীন, পরীর সাথে তার Link স্থাপন হয়েছে। জীন বলেন, পরী বলেন সবই হল পরাবস্তু। তারা বস্তুজগতের বাসিন্দা নয়। আর এই কারণে আমরা তাদের দেখি না। বস্তুজগতের বাসিন্দার সাথে পরাবস্তুজগতের বাসিন্দার যোগাযোগের একমাত্র উপায় হল- Parallel Universe এর ঘটনা ঘটা। দেখা যাবে, যে বস্তুর উপর জীনের আছর পড়েছে সে তার effect field এর under এ পড়ে। সোজাভাবে বললে বস্তুর অবস্থান পরাবস্তুর অবস্থানের সমান্তরালে আছে। এ কারণে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটে। প্রভাবিত ব্যাক্তিই কেবল দেখতে পায়, আমরা পাই না।

 

*সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তাধারায় লেখা। এইরকম কিছু আগে কেউ ভেবেছিল কিনা জানিনা কিন্তু আমি মনে করি আমিই সর্বপ্রথম।*

——[Please do not use this writing without my permission]——-

© All rights reserved by
█║▌█║▌║▌║║█║▌║║│█│║▌║││█│║▌║│​█│║
Md. Adib Ibne Yousuf [adib10mist@gmail.com]

This slideshow requires JavaScript.

বস্তু ও পরা-বস্তু বিষয়ক ভাবনা

   আমরা আমাদের চারপাশে যে জগতটা দেখি এটা হল বস্তুজগত। কারণ এই জগতটা অনেক বস্তু নিয়ে গঠিত। এই বস্তুজগতটা তিনটি মাত্রার সমষ্টি নিয়ে গঠিত। তিনটি মাত্রা হল দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা। আমরা যদি আমাদের চারপাশে ভালোভাবে তাকাই তাহলে দেখবো প্রতিটি বস্তুই এই তিনমাত্রায় গঠিত। সবারই দৈর্ঘ্য আছে, প্রস্থ আছে এবং আছে উচ্চতা। এগুলোর মানে হল সবই ত্রিমাত্রিক। আর আমরা এক্তি ত্রিমাত্রিক বস্তুজগতে বসবাস করি। আরেকটা ব্যাপার আছে টা হল সময়। এটাকে যদি মাত্রা হিসেবে বিবেচনা করি তাহলে তো জগতটাকে চতুর্মাত্রিকই ধরতে হয় তাই না? কিন্তু আমরা কি হিসেবের সময় দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার পাশাপাশি সময় (time) টাকে বিবেচনা করি ? করি না। কিন্তু এই সময় দেখেই কিন্তু আমরা আমাদের জীবন পরিচালনা করি। তাহলে কি দাঁড়াচ্ছে , আপেক্ষিকভাবে আমরা একটি চতুর্মাত্রিক বস্তুজগতে বসবাস করছি। আমাদের চোখে আমরা হল ত্রিমাত্রিক জীব, আর সময় যদি বিবেচনা করি তাহলে… চতুর্মাত্রিক ? এই প্রশ্ন আপেক্ষিক। আপেক্ষিক-ই থাক। আমরা চিন্তার বেলায় এটি আপেক্ষিকভাবেই ধরব। তাহলে বুঝা যাচ্ছে, এটি আমাদের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনার উর্ধেব। কারন যখনই আমরা আমাদের নিজেদেরকে চতুর্মাত্রিক জীব বলে কল্পনা করছি ঠিক তখনই টা বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনা করতে পারছিনা, করছি আপেক্ষিকভাবে! এইরকম অনেক কিছুই কিন্তু আমরা পারি না!

       বলছিলাম বস্তুজগতের কথা। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দুইটি জগতে বিভক্ত। একটি বস্তুজগত আরেকটি পরা-বস্তুজগত। আমরা বস্তুজগতে বাস করি বলে পরা-বস্তুজগতের সন্ধান পাই না। এবং ওটার সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান নেই বললেই চলে। পদার্থবিজ্ঞানীরা পরা-বস্তুজগত সম্পর্কে অনেক গবেষণা করছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। তাঁরা নানা থিওরেম দিয়েছেন যা আমাদের মত সাধারন মানুষের কাছে বোঝা দুরহ। মানুষের কল্পনাশক্তি প্রখর, এটা আমরা জানি। আমরা কিন্তু প্রচুর চিন্তাও করি। আর বিজ্ঞানীরা এই চিন্তাভাবনা করে, কল্পনাশক্তিকে ব্যবহার করেই কিন্তু এইসব থিওরেম দিয়েছেন। আমরা কি পারিনা এই সম্পর্কে একটু চিন্তা করতে? এবং তা নিজস্ব কল্পনাশক্তির মাধ্যমে। অবশ্যই পারি। তা হলে আসুন একটু চিন্তা করি।

          কিভাবে শুরু করব বুঝতে পারছিনা!

আচ্ছা, আমরা কি? আমরা কি সেটা জানি? অনেকেই সেটা সোজাসাপটাভাবে বলে দেবে- আমরা মানুষ। হুম। এতাই কি যথার্থ উত্তর? একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখবো আমরা কিন্তু একেকটা বস্তু। এই যে আমাদের যে শারীরিক গঠন টা অনেকগুলো বস্তুর সমষ্টি- তাই নয় কি? আমরা কি নিজেদের শক্তি বলে দাবী করতে পারি? পদার্থবিজ্ঞান কি বলে? ‘শক্তির কোনো সৃষ্টি বা বিনাশ নাই’। আমাদের ক্ষেত্রে কি সেটা খাটে? না। আমাদের সৃষ্টি আছে। একসময় ধ্বংসও হয়ে যাবো। ধ্বংসের কথা পরে বলি, আগে সৃষ্টির কথা ধরা যাক। সৃষ্টির সময় আমরা কতটুকু ছিলাম? অনেক ছোট- এবং তাতে কিছু DNA, RNA ছিল। যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলাম এখন কত বড়?  দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার পার্থক্য হয়েছে না? তাহলে এখান হতে বুঝা যায়- আমরা একেকটা ত্রিমাত্রিক বস্তু (শক্তি যেহেতু নই)। আচ্ছা এবার ধ্বংসের কথায় আসি। শক্তির বেলায় হচ্ছে ধ্বংস, আর আমাদের বস্তুর বেলায় হল মৃত্যু। সৃষ্টি হল জন্ম। বস্তুর বেলায়- তাঁর যেমন জন্ম আছে, মৃত্যুও তেমনি আছে। একদিন না একদিন ঘটবেই। জন্মের পর হতেই বস্তুর বাড়তে থাকে। একসময় তা তার চূড়ান্ত সময়ে পৌঁছে, যারপরে সে আর বাড়তে পারে না। তখন তার মৃত্যু ঘটে। এই যে জন্ম ও  মৃত্যু- মাঝখানে কিছু না কিছু হয়েছে তাই নয় কি? এই কিছুক্ষন হল সময়। তাহলে বস্তুর জীবিতকালে তিনমাত্রার সাথে সময় যদি বিবেচনা করি তাহলে কি দাঁড়ায়- আমরা একটি চতুর্মাত্রিক বস্তু। এবং তা অবশ্যই আমরা জীবিতকালে হিসেব করতে পারি না, কারন আমরা কখনোই জানি না আমরা কতদিন কত সময় ধরে বাঁচবো। তাহলে যখন মৃত্যু হয় বা মৃত্যুকে বিবেচনায় ধরি তখনি কেবলমাত্র আমরা নিজেদের বলতে পারি চতুর্মাত্রিক, তখন সময় জিনিসটা আসে। কিন্তু মৃত্যুর পর কি আমরা তা হিসেব করতে পারি? আমরা তা জানিনা এবং হিসেব করিও না বলেই আমরা ত্রিমাত্রিক। আর আপেক্ষিকভাবে চতুর্মাত্রিকএকটা কথা ত বুঝলাম যে আমরা কোন ধরনের শক্তি নই, আমরা হলাম বস্তু। বস্তুজগতের বাসিন্দা। তাহলে আরেকটা যে জগত আছে- পরাবস্তুজগত, অখানে কারা থাকে? আমরাই থাকি! চমকে গেলাম নাকি? চমকে যাবার মতই উত্তর। আসলে স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করলে জিনিসটা মাথায় আসে না। তাহলে কি অস্বাভাবিকভাবে চিন্তা করব? না। একটু প্রবলচিন্তা ও কল্পনাশক্তি সেইসাথে লজিক খাটাতে হভে এক্ষেত্রে। তা হলে পরা-বস্তুজগতের কথা শুরু করি কি বলেন?

Previous আলোচনায় বস্তুর জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলাম আমরা। আচ্ছা মৃত্যুর পরে কি হয় তা আমরা কি জানি? না। পদার্থবিজ্ঞান বলে, বস্তুর মৃত্যুর পর অর ধর্মের কিছুই থাকে না। বলা যায় পুরোপুরি বিনাশ হয়, অস্তিত্ব থাকে না। অধিকাংশ পদার্থবিজ্ঞানী-ই নাস্তিক এই কথা শোনা যায়। তারা বস্তুর মৃত্যুর পরের ঘটনাকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন-এবং তা ধর্মকে বাদ দিয়ে! আমি আমার আলোচনার সময় ধর্মকে কোনরূপ ঢুকাচ্ছিও না আবার বাদও দিচ্ছিনা। বলতে পারেন ছাড়াছাড়াভাবে রাখছি। বলছিলাম মৃত্যুর পরের কথা। আচ্ছা আমরা যখন জীবিত থাকি তখন অনেক কিছুই চিন্তা করছি এবং তা মস্তিস্ক ব্যবহার করে। মৃত্যুর পর এসব কি কিছু থাকে? কিছুই থাকে না। ধর্ম হতে যদি কিছু নিই তাহলে বলতে পারব আমাদের বস্তুকেন্দ্রিক গঠনটার ধ্বংস হলেও আমাদের আত্মকেন্দ্রিক বা বস্তুর কেন্দ্রে যা স্বকীয়, তা থেকে যায়। জিনিসটা হল আত্মা (Soul)। ওই আত্মা কি আমরা নই? অবশ্যই আমরা। কিন্তু তা বস্তুজগতের মারা নই। এই আত্মাও একধরনের বস্তু এবং তা হল পরাবস্তু। তা পরাবস্তুজগতে থাকে। আমরা তা দেখি না কারন বস্তুজগতের সাথে পরাবস্তুজগতের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্যে কোন মাধ্যম নাই।

          অনেকসময় অনেকে দাবি করে থাকেন- তিনি অমুক মৃত্যু ব্যক্তির আত্মা কে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন। এটা সম্ভব নয়। এটা তাঁর দৃষ্টিভ্রম (Hallucination)কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হতে পারে। যদি তা প্যারালাল ইউনিভার্সের মত ঘটনা ঘটে। ওটা পরে ব্যাখ্যা করব। তাহলে কি দাঁড়াচ্ছে বস্তুজগতে যে আমি বেঁচে আছি, পরাবস্তুজগতেও আমার মত একজন আছে। কিন্তু তা কখনো সম্ভব নয় যদি না আমি বেচে থাকি। সেটা তখনি সম্ভব হবে যখন আমার বিনাশ হবে। এখান হতে কি বুঝা গেল- বস্তুজগতের পরপরই পরাবস্তুজগত শুরু হয়। পদার্থবিজ্ঞানে একটা সুত্র আছে-‘একটি বস্তু একই সঙ্গে দুটি স্থান দখল করতে পারেনা’। তাহলে তো এই সুত্রের সত্যতা মিলে গেল। যদি এটা মিথ্যা হতো তাহলে বস্তুজগতে যেমন আমি থাকতাম তেমনি পরাবস্তুজগতেও আমি (আমার মত হুবহু একটা কপি) থাকতাম। ওই যে আত্মার কথা বলছিলাম-সেটা হল পরাবস্তু। আচ্ছা পরাবস্তু কি আমাদের মতই ত্রিমাত্রিক? না। বস্তুর মৃত্যুর পর ওটা কি হয়? এতক্ষনের আলোচনায় যা বুঝলাম তা হল পরাবস্তু। বস্তুর মৃত্যুর পর কি তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা থাকে? তার তো সব প্রকৃতির বিনাশ হওয়ার কথা। তাহলে কি দাঁড়ায়, পরাবস্তু ত্রিমাত্রিক নয়। যদি সময় বিবেচনা করি, তাহলে দেখা যায়, বস্তুজগতে সময় হল সসীম অর্থাৎ তা হিসাব করা যায়। তাহলে পরাবস্তুজগত হবে বস্তুজগতের ঠিক উল্টো। সেখানে সময়কে হিসাব করা যায় না। মানে-সময় হল অসীম। অনন্তকাল। তাহলে সময়কেও মাত্রা হিসেবে বিবেচনা করতে পারছিনা। কি দাঁড়ালো পরাবস্তুজগত হল মাত্রাশুন্য!
আমরা বাস করছি তিনমাত্রার জগতে। দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা- এই মাত্রা যে জগতে বিলুপ্ত থাকে তাকে পরাবস্তুজগত বলে। আমাদের মানুষের যে ক্ষমতা তা অন্য সৃষ্টির মধ্যে নাই। আমাদের ক্ষমতা কিন্তু পরাবস্তুজগতে। কিন্তু আমরা মেতে আছি এই বস্তুজগত নিয়ে, যা কিছুক্ষনের জন্য। কিন্তু যে জগত পড়ে রয়েছে অনন্তকালের জন্য তার কথা আমরা চিন্তাও করতে পারি না।

(চলবে)