কুরআনের অবিশ্বাস্য গানিতিক বিস্ময়

কুরআনের অবিশ্বাস্য গানিতিক বিস্ময়

আপনি জেনে খুব বিস্মিত হবেন পবিত্র কুরআনের আয়াত গুলোর মধ্যে ১৯ সংখ্যাটির কারুকার্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে গেঁথে দেওয়া হয়েছে । কুরআন যদি কোন রক্ত মাংসের মানুষ দ্বারাই রচিত হত তবে এতে এমন নিখুঁত গানিতিক হিসাব থাকত না । মানুষের চিন্তাশক্তির একটা সীমা আছে, কিন্তু কুরআনের এই নিখুঁত হিসাব সেই সীমাকে অতিক্রম করে অসিমে চলে যায় আর প্রমান করে এক মহাশক্তির অস্তিত্বের সত্যতা । সেই মহাশক্তিই হল মহান আল্লাহ সুবহানওয়াতায়ালা । পুরোটা পড়ার পর আপনার মাথা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসবে ।

১। আরবীতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” লিখতে ঠিক ১৯ টা হরফ লাগে ।

২। কুরআনে মোট ১১৪টি সূরা আছে । ১১৪ সংখ্যাটি ১৯ দিয়ে বিভাজ্য (১১৪=১৯x৬)।

৩। প্রথম যে সূরাটি (সূরা আলাক) নাযিল হয় তার অবস্থান শেষের দিক থেকে ১৯ তম ।

৪। প্রথম যে পাঁচটি আয়াত (সূরা আলাকের) নাযিল হয় তাতে ঠিক ১৯ টি শব্দ আছে ।

৫। সূরা আলাকে মোট আয়াত আছে  ১৯টি । আর এই ১৯ আয়াতে আছে মোট ২৮৫টি শব্দ যা কিনা বিস্ময়করভাবে ১৯ দিয়ে নিঃশেষে ভাগ করা যায় (২৮৫=১৯x১৫) ।

৬। নাযিলকৃত দ্বিতীয় সূরাটির (সূরা আল-কালাম, কুরআনে অবস্থান ৬৮তম) শব্দসংখ্যা ৩৮(১৯x২)টি।

৭। নাযিলকৃত তৃতীয় সূরাটির (সূরা আল-মুজাম্মিল, কুরআনে অবস্থান ৭৩তম) শব্দসংখ্যা ৫৭(১৯x৩)টি।

৮। আবার সব শেষে নাযিল হওয়া ‘সূরা আন-নাসর’ এ আছে মোট ১৯টি শব্দ । আর এই সূরার প্রথম আয়াতে(আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে এই আয়াতে) আছে ঠিক ১৯টি হরফ ।

৯। কুরআনে ‘আল্লাহ্‌’ নামটি উল্লেখ করা হয়েছে মোট ১৩৩বার যা কিনা ১৯ দিয়ে বিভাজ্য (১৩৩=১৯x৭)।

১০। কুরআনে মোট তিরিশটি পূর্ণসংখ্যার উল্লেখ আছে যাদের যোগফল১৯ দিয়ে বিভাজ্য ।

1 + 2 + 3 + 4 + 5 + 6 + 7 + 8 + 9 + 10 + 11 + 12 + 19 +20 + 30 + 40 + 50 + 60 + 70 + 80 + 99 + 100 + 200 + 300 + 1000 + 2000 + 3000 + 5000 + 50000 + 100000 = 162,146 (19 x 8534)

১১। আর দশমিক ভগ্নাংশ আছে মোট ৮টি 1/10, 1/8, 1/6, 1/5, 1/4, 1/3, 1/2 এবং 2/3. । তাহলে কুরআনে মোট ৩৮ টি সংখ্যার উল্ল্যেখ আছে (৩৮=১৯x২)।

১২। ১১৩টি সূরার আগে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” আছে । শুধুমাত্র সূরা আত-তাওবা এর আগে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” নেই । আর সূরা আন-নামল এর আগে আছে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” দুইবার করে আছে । তাহলে কুরআনে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” আছে মোট ১১৪(১৯ x৬)বার । সূরা আত-তাওবা কে প্রথম ধরে যদি গুনে গুনে পরবর্তী সূরার দিকে যেতে থাকেন তবে সূরা আন-নামল পাবেন ঠিক ১৯তম স্থানে ! (ছবিতে দেখুন)

কুরআনে সূরা আল-মুদ্দাসিরের ৩০ নম্বর আয়াতে চ্যালেঞ্জ করে বলা আছে-

There are nineteen in charge of it.” (Qur’an, 74:30) 

অর্থাৎ ১৯ সংখ্যাটি এর দায়িত্তে আছে । অর্থাৎ কেউ ইচ্ছা করলেই কুরআনকে বিকৃত করতে পারবে না । ১৯ এর ব্যাপার গুলো হিসেব করলেই সব বের হয়ে আসবে এটাকে কেউ বিকৃত করেছে কিনা ! একটু চিন্তা করুন কেউ একটা বই লিখে সেই বইয়ের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এমন একটা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে? আপনি অনেক প্রতিভাবান লেখক আপনি পারবেন শব্দ,বর্ণ,বাক্যের সংখ্যা নিয়ে এরকম একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে একটা বই লিখতে ? এসবই প্রমাণ করে কুরআন কোন মানুষের তৈরি কাকতালীয়ভাবে মিলে যাওয়া কোন বই না । এটা সৃষ্টিকর্তার নিজের কথা,বানী । একারণেই আদ্যবধি যেমন কুরআন বিকৃত হয়নি তেমনি কেয়ামতের আগ পর্যন্তও হবে না । মহাশক্তিধর আল্লাহ্‌ নিজেই যে এর রক্ষক ।

এখানে কুরআনের মাত্র বারটি গানিতিক বিস্ময়ের কথা বলা হল । কিন্তু গানিতিক বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয় । আরও অনেক আছে । পরবর্তীতে বাকিগুলো নিয়ে আলোচনা করব ।

*** আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজীর (স:) নির্দেশ,

ইসলাম সম্পর্কে তুমি যা জানবে তা অন্যদের জানিয়ে দাও ।

আসুন আমরা সবাই এই লিখাটি সামাজিক মাধ্যমসমূহে শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দেই । যারা ইসলাম নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে তাদের কিছুটা হলেও নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দেই ।

313840_186815941394514_169282156481226_397171_1785593635_n

আত-তাওবা কে প্রথম ধরে যদি গুনে গুনে পরবর্তী সূরার দিকে যেতে থাকেন তবে সূরা আন-নামল পাবেন ঠিক ১৯তম স্থানে ! প্রথম দিক থেকে হিসেব করে যেতে থাকলে ১৯ আয়াত সম্বলিত প্রথম সূরা হচ্ছে সূরা আল-ইনফিতার । এই সুরাটির শেষ শব্দ হল ‘আল্লাহ্‌’ । আপনি যদি শেষের দিক হতে আল্লাহ্‌ শব্দটি গুনেগুনে আসতে থাকেন আপনি তাহলে সূরা আল-ইনফিতারের শেষের ‘আল্লাহ্‌’ এর অবস্থান হবে একদম ঠিক ১৯তম স্থানে !  আল্লাহ্‌ আকবর । আল্লাহ্‌ আকবর । আল্লাহ্‌ আকবর । আল্লাহ্‌ আকবর ।

উৎস: নেট, দৈনিক ইনকিলাব (২০০৪), কুর’আনের আলো, কিছু ইসলামিক বই

Advertisements

স্বপ্ন রহস্য

 

১.

বন্ধু যশ কয়দিন ধরে আমাকে ম্যাগাজিনে লেখা দেওয়ার জন্য চাপাচাপি করছে। সময় সংকীর্ণতার কারণে তা হয়ে উঠছে না। ভাবছি একটা গল্প লিখবো। তাই কাহিনী ভাবতে লাগলাম। কোন প্লটই মাথা থেকে আসছে না। কি করি? লেখা জমা দেওয়ার দিনটাও আবার ঘনিয়ে আসছে। আমার পরাবস্তু শীর্ষক ধারণাটি টয়লেটে থাকাকালীন এসেছিল। তাই টয়লেটে যাওয়াই এখন একমাত্র সমাধান। তো টয়লেটে চলে গেলাম। বসে আছি। চিন্তা করছি। বের হয়ে গেল!

একটা প্লট দাঁড়া করালাম। গতকাল এস্ত্রবয় নামক একটা এনিমেটেড মুভি দেখেছি। খেয়াল করলাম, প্লটটি ঐ মুভি দ্বারা প্রভাবিত। এত চিন্তা করে একটা প্লট যখন মাথায় এনেছি তখন লিখে ফেলব বলে ঠিক করলাম। তো লেখা শুরু করলাম। এক পাতা লেখার পর খেয়াল করলাম, আমার লেখাটা জহির রায়হান কর্তৃক প্রভাবিত। কারন খুঁজতে লাগলাম। অবশেষে পেয়ে গেলাম। মাসখানেক আগে যখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল তখন জহির রায়হান এর ছোট গল্প ‘সময়ের প্রয়োজনে’ পড়েছিলাম। একসময় মাথায় ভূত চেপে বসল- এটার উপর একটা ডকুমেন্টারি টাইপ মুভি বানাবো। ছবিপাগল কতক বন্ধুর সাথে আলোচনা করার পর বুঝলাম কাহিনীর প্রেক্ষাপট ফুটিয়ে তোলার মত রসদ এই মুহূর্তে আমার হাতে নেই। তাই এই প্রজেক্ট বাদ দিতে হল। আজ কাহিনী লেখার সময় সে কথা মনে পড়ে গেল। শেষ পর্যন্ত যদি লেখাটা ঐ পথে Divert করে তাহলে এটাও বাতিল করতে হবে। সব কিছু মাথা থেকে ঝেড়ে পণ করলাম আমাকে লেখাটা শেষ করতেই হবে। এক পর্যায়ে খুব ঝিমুনি আসছিল। তাই চোখেমুখে পানি দিয়ে আবার লিখতে বসলাম।

 

২.

প্রচণ্ড সূর্যালোক। চোখ ধাঁধানো আলো। চোখ খুলে তাকাতে পারছিনা। অনুভব করলাম আমার হাতে পায়ে ব্যাথা। কষ্ট হল খুব, কোনোমতে উঠে দাঁড়ালাম। চারদিকে তাকিয়ে দেখি- যেদিক চোখ যায় শুধু বালু আর বালু। আরে! এটা তো মরুভুমি। আমি এখানে কিভাবে আসলাম? তখনই কাছে কোন এক জায়গায় বাজ পড়ার মত শব্দ হল। পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি বিশাল বড় একটা বাইভার্বাল পড়ে আছে আর সেটা হতে অতিকায় একটা রোবট বের হয়ে আসছে। মনের মধ্যে কৌতূহল জাগল। যাই রোবটটার সাথে হাত মিলিয়ে আসি। যেই না কাছে গেলাম হাত মিলাতে আর ওমনি রোবটটা তার অতিকায় মুষ্টি দিয়ে আমাকে দিল এক ঘুষি। লক্ষ্য করলাম, আমি হাওয়ায় ভাসছি। অনেক দূরে গিয়ে পড়লাম কিন্তু কোন ব্যাথা অনুভব করলাম না। আরে! আমার পায়ের নিচ দিয়ে যে আগুন বের হচ্ছে। এবার পোশাকের দিকে খেয়াল করলাম। কমান্ডো টাইপ স্যুট। অবাক হলাম! ওদিকে রোবটটি মাটি কাঁপিয়ে থপ থপ শব্দ ফেলে আমার দিকে ছুটে আসছে। কাঁধে কিছু একটা অনুভব করলাম। হাত দিতেই দেখি, একটা এটমিক ব্লাস্টার। চালাতে তো পারিনা। কি করব? ট্রিগার টেনে সুইচ প্রেস করলাম আন্দাজে। নিয়টনের ৩য় সূত্র খাটল আমার উপর, কয়েকগজ দূরে গিয়ে পড়লাম। দেখি রোবটের এক হাত ও এক পা উড়ে গেছে। আর সেখান হতে আরেকটা হাত-পা গজাচ্ছে। কি ভয়ানক কাণ্ড! এটা তো যান্ত্রিক হাইড্রা। ভীত হয়ে দৌড়াতে লাগলাম। নিজেকে এখন উসাইন বোল্টের মত মনে হচ্ছে। ঝড়ের বেগে ছুটছি আমি। পিছনে রোবটটিও ছুটে আসছে। সামনে একটা জায়গাকে জলাভূমির মত মনে হল। আসলে এটা মরীচিকা। প্রচণ্ড এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব করলাম। চোখের সামনে অনেক ধরনের রং খেলা করছে। তারপর আর কিছু মনে নেই।

 

৩.

যখন জ্ঞান ফিরল তখন মুখে নোনা পানির গন্ধ পেলাম। চোখ খুলতে পারছি না। প্রচণ্ড পানির স্রোত আমার দিকে ছুটে আসছে। বিশাল বিশাল ঢেউ আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সাঁতার কাটার চেষ্টা করলাম। শরীরে শক্তি নাই। প্রাণ বাঁচাতে হবে। স্পষ্ট মনে আছে কিছুক্ষন আগে আমি মরুভূমিতে ছিলাম আর এখন সমুদ্রের নোনা পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছি। অতিকষ্টে সাঁতরে তীরে এসে পৌঁছলাম। বাচ্চার আওয়াজ শুনলাম। শরীরের সব জায়গায় ব্যাথা। তবুও কষ্ট করে উঠে দাঁড়ালাম। দেখালাম কিছুটা দূরে দুইটি ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চা বালি দিয়ে ঘর বানাচ্ছে। আর তাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। তারা পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে আছে। একটা ধাক্কা খেলাম। লোকটা ঠিক আমার মত দেখতে। মনের মাঝে কৌতূহল জমল। এগিয়ে গেলাম তাদের দিকে। আমি এগিয়ে আসছি দেখে বাচ্চাগুলো অপরিচিত ভেবে কান্না জুড়ে দিল। ছেলেটি ভীত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,’আপনি ঠিক আমার মত!’ ‘হ্যাঁ,আমিও অবাক হচ্ছি, কে তুমি?’ জিজ্ঞেস করলাম। ‘আমাকে আপনি চিনবেন না। আমার নাম রুরুবিন। কিন্তু আপনাকে আমি ঠিকই চিনেছি।‘ জিজ্ঞেস করলাম,’কিসে চিনলে?’ ছেলেটি মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলল,’তাসরেম, ইনি হলেন সেই পরিব্রাজক যিনি আমাকে খুন করতে এক সহস্রাব্দ পার করে ছুটে এসেছেন।‘ আমি তাদের কথায় বিস্মিত হলাম এবং বুঝানোর চেষ্টা করলাম যে আমি তাদের মারতে আসিনি। হাতে কোন প্রমানও নাই কি করি? দেখলাম তাসরেম একটা লেজার সোর্ড নিয়ে এসেছে। আমার দিকে উঁচিয়ে ধরেছে। রুরুবিন বললো,’এটা আমাদের পৃথিবী, এখানে আপনার মত আদিম কোন মানুষের থাকার কোন অধিকার নাই।‘ এই কথা যখনি ও বলা শেষ করল ঠিক তখন দেখলাম তীরের সব অট্টালিকা আপনাআপনি ভেঙ্গে পড়তে লাগলো। মেয়েটি আর্তনাদ করে উঠল। জোরে জোরে বাতাস বইতে লাগলো, যেন আমাদের উড়িয়ে নিয়ে যাবে। ‘না এখনি আপনাকে মেরে ফেলতে হবে, না হলে এই প্রলয়কাণ্ড শেষ হবে না‘ রুরুবিন বলল। কথা শেষ না হতেই দেখলাম,সামনে বড় বড় ঢেউ আমাদের দিকে ছুটে আসছে। একটু পরেই তা আমাদের গ্রাস করল। রুরুবিন ও তাসরেমের আর্তনাদ শুনলাম,’না’। আমি জ্ঞান হারালাম।

৪.

প্রচণ্ড কাঁপুনিতে জেগে উঠলাম আমি। মনে হল ভূমিকম্প হচ্ছে। একটা গোলাকার সাদা ঘর। একটি চেয়ারে আমি বসে আছি। আমার সামনে সাদাপাকা চুলের একটি লোক বসে আছে। আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,’কেমন লাগলো, শার্প তাই না?’ আমি তখনও ঘুমের ঘোরে। ঘুমকাতুরে গলায় বললাম ‘কোথায় আমি?’ লোকটি প্রশ্নটি এড়িয়ে জবাব দিল,’তুমি অনেকদিন ধরে ঘুমুচ্ছ, তোমাকে জাগিয়ে তোলা হয়েছে।

-আমার কি হয়েছিল? – জিজ্ঞেস করলাম তাকে।

-তুমি টাইম কনটিনিউয়ামে আটকে ছিলে অনেকদিন, যা সময়ের একটি জটিল দশা বলতে পার – লোকটি বলল।

-এটা কি একটা স্বপ্ন? আমি কি স্বপ্ন দেখছি?

-বলতে পার, এটা হল জীবন ও মৃত্যুর ঠিক মাঝামাঝি একটি পর্যায়।

আমার কেন জানি মনে হল আমি পৃথিবীতে নাই, মরে গেছি- তাই জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি বেঁচে আছি?

-হ্যাঁ, তুমি স্বপ্নের পৃথিবীতে বেঁচে আছো।

-আমাকে আমার পৃথিবীতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। আমি এখানে থাকতে চাই না।

-না এখন সেটা সম্ভব নয়। তুমি সহস্রাব্দ কাল ধরে এখানে আছো, তুমি যদি এখন পৃথিবীতে ফিরে যাও তাহলে তা প্রকৃতি সহ্য করবে না।

-কে কি সহ্য করল কি করল না তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। আমি এখানে থাকতে চাই না।

-তুমি না চাইলেও তোমাকে থাকতে হবে। তোমাকে মুক্তমানুষ হতে হবে।

-মুক্তমানুষ! দেখেন, মানুষ আছি ভাল আছি, ওসব হতে চাই না।

-দেখ,তুমি সময়কে স্থির করতে গিয়ে একটি স্পাইরাল লুপে আটকা পড়েছিলে। পৃথিবীর বয়স এখন সহস্রাব্দ বছর বেড়ে গেছে। তুমি বরঞ্চ এই স্বপ্নের পৃথিবীতে থেকে যাও।

-স্বপ্ন শুধুই মায়া। এর কোন ভিত্তি নাই। এই অলীক পরিবেশে থাকলে আমি পাগল হয়ে যাবো।

-দেখো, তুমি অনেক স্তর পেরিয়ে এসেছ, ক্লান্ত তুমি। সময় নাও, সিদ্ধান্ত নাও, কি করবে তুমি?

-আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল।

-এখানে তুমি তোমার মনের মানুষকে পাশে পাবে, স্বপ্নের পৃথিবীতে মুক্তমানুষ হয়ে সুখের নীড় রচনা করবে।

-আমি কিছুই চাই না, পৃথিবীতে ফিরে যেতে চাই।

-তাহলে এটাই তোমার সিদ্ধান্ত।

-হ্যাঁ।

-তবে তাই হোক।

মাথার পেছনে তীব্র আঘাত অনুভব করলাম। জ্ঞান হারালাম।

 

৫.

‘এই উঠ, ভার্সিটি যাবি না?’ মায়ের ঝাঁকুনিতে ঘুম ভাঙ্গল আমার। ‘সারারাত ধরে টেবিলেই ঘুমাচ্ছিস, কি লিখছিলি ছাইপাশ?’ ‘ও কিছুনা আম্মু, ম্যাগাজিনের জন্য গল্প লিখতে বসেছিলাম রাত্রে, ধুর শেষ করতে পারলাম না, আজকে লাস্ট ডেট জমা দেওয়ার’ –ঘুমকাতুরে গলায় বললাম আমি। ‘যা তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নে, সাতটা বেজে গেছে’ –আম্মু একথা বলে চলে গেলেন। ঘুমটা যায়নি মোটেই। বিড়বিড় করে বললাম, ‘ধুর, লাকটাই খারাপ।‘ তারপর গল্পের কাগজটা হাতে তুলে নিলাম।

মোটেই বিশ্বাস হচ্ছেনা। হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছে। হাতড়িয়ে চশমাটা তুলে নিলাম, রাতে নিচে পড়ে গিয়েছিল। চশমাটা পড়লাম। আবার স্বপ্ন দেখছিনা তো কোন। চিমটি কাটলাম হাতে। না জেগেই আছি। ভুল দেখছি না। স্বপ্নে যা দেখলাম আদ্যোপান্ত তাই লেখা কাগজে। কে লিখল এগুলো? আমি লিখেছি! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম গল্পটার দিকে।

************************

চারপাশের পরিবেশ ও নিজস্ব কিছু কথা

১৯ টি বসন্ত পেরিয়ে ২০ এ পা দিব আর কয়দিন পর। কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম আমি এই ১৯ টি বসন্তকে নিয়ে পর্যালোচনা করব। কত কিছু দেখলাম, কত কিসিমের মানুষ দেখলাম- সব লিখবো। কয়দিন ধরে মনের মধ্যে একধরনের ভয় দানা বাঁধতে শুরু করেছে, নিজের কয়েকটি সাম্প্রতিক লেখার উপর এর প্রভাব পড়েছে আবার। বারবার আমার মনে হচ্ছে, এই যে ২০ টি বসন্ত পাড়ি দিলাম, ভবিষ্যতে বোধ হয় এইরকম আরেকটি ২০ বসন্ত উদযাপন করতে পারব না। তাই নিজেকে মূল্যায়ন করতে বসে পড়লাম আর বাকি যে কয়টা বছর আছে তাতে কি করা যায় তার পরিকল্পনা করা শুরু করলাম। আমার চারপাশের পরিবেশ নিয়ে বলার আগে আপনাদেরকে আমার নিজের সম্পর্কে একটু ধারণা দিই। আমি মানুষটা আমার চোখে কি রকম? কোন রকম বাড়িয়ে বলব না যেমন, তেমনি কোন জিনিস গোপন ও করবনা।

আমি মানুষটা একটু স্বপ্নবিলাসি টাইপের। প্রচুর স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি, কিন্তু বাস্তবে তা বাস্তবায়ন খুব কমই হয়। আমি কল্পনা করতে ভালোবাসি। আমি মনে করি যে এই যে আর কয়টা দিন বাঁচব, সেই দিনগুলিতে আমি এমন কিছু করে যেতে পারব যা দিয়ে পৃথিবীবাসীর উপকার সাধন হবে, আমার দেশেরও উপকার হবে। আমি যখন থাকব না তখন আমার কর্ম দেখে মানুষ আমাকে স্মরন করবে- এটাই আমি চাই। আমার একটা Wildest Dream আছে আর তা হল- বিখ্যাত টাইপের একজন বিজ্ঞানী হয়ে দেশের জন্য একটা নোবেল নিয়ে আসা। তা যেকোনো বিষয়েই হতে পারে। এমন এক জিনিস আবিষ্কার করব যা আগে এই মর্ত্যবাসী চর্মচক্ষে দেখে নাই। বলছিলাম স্বপ্নের কথা, এবার বলি কল্পনার কথা। এই কল্পনার পিছে পিছে আমার মাথায় সর্বদা ঘোরাফেরা করে Innovative সব Idea. যখন ক্লাস সেভেনে পরি, তখন একদিন এক বন্ধু আমাকে একটা জিনিস দেখায়- বলতে পারি ওইটাই আমার সবকিছুর শুরু। আমার পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিলনা, আমার ঐ বন্ধুর প্রস্তাবে কাজে লেগে পরি। কয়দিনের মধ্যেই ওইটাকে আরও develop করি। নতুন কিছু বানিয়েছি এই আনন্দে তখন আমি ও আমার সেই বন্ধু দিশেহারা। স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের প্রধানের কাছে নিয়ে গেলাম ওইটার একটা Model- Practically করে দেখালাম ওনাকে। স্যার আমাদের হতাশ করে বললেন, ‘কোত্থেকে এটা তুলে নিয়ে এসেছ, এটা তো অনেক আগেই হয়ে গেছে’। এর পর আমি এটার সম্পর্কে জানতে পারি উচ্চমাধ্যমিকে। জিনিষটার নাম ‘হুকের সূত্র’! আমি কিন্তু হতাশ হইনি। সেদিন ঐ ঘটনা আমার মধ্যে রোপণ করেছিল ‘নতুন কিছু আবিষ্কার’ এর বীজ।

শুধুই তো গুণের কথা বলছি এইবার আমার কিছু দোষের কথা শুনুন। আমার একটি বদভ্যাস হল আমি কোন একটা জিনিস শুরু করলে ওইটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওইটার পিছে লেগে থাকি। অমানুষিক পরিশ্রম আর কি! যেটা দেখি আমার আয়ত্তের বাইরে সেটা নিয়ে আর আগাই না।  এই কারণে আমি সেভেনের ঐ মডেল টা ৪ সপ্তাহে দাঁড়া করাতে পেরেছিলাম। যেটা ভাল পারি- সেটা খুব ভাল পারি, আর যেটা বুঝিনা সেটা পারিই না। আর খুব পরিশ্রম করতে পারি আমি। এর অনেক দৃষ্টান্ত আছে আমার স্কুল আর কলেজ লাইফে। অনেক প্রফেসর বলেন সবার মেধা সমান না। আমি এইটা বিশ্বাসই করি না। আমি কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী। আর মেধা বলে যদি কিছু থেকেও থাকে, আমি মনে করি মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে সেটা সমানভাবে দিয়েছেন। আমরা কেউ সেটা কাজে লাগাতে পারছি, আর কেউ কেউ পারছিনা। আমি উচ্চমাধ্যমিকের পর একবার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছুদিন ছেলে-পেলেদের পড়িয়েছিলাম। দেখলাম তাদের মধ্যে আমার মত সমমেধা রয়েছে- ওরা পরিশ্রমও করে। কিন্তু পারছেনা কেন? আমি বলব- কোন কাজে সাফল্যের জন্য লাগে সহায়ক পরিবেশ। ওরা আমাদের মত শিক্ষার পরিবেশ পাচ্ছেনা  বিধায় এগুতে পারছেনা।

আপনারা হয়ত একটু খেয়াল করে দেখেছেন- আমি লাফিয়ে লাফিয়ে এক জায়গা হতে জায়গা থেকে চলে যাচ্ছি। লেখে যাচ্ছি। এটা আমার একটা দোষ। বলতে পারেন- যা মাথায় আসে তাই লিখে ফেলি। একটু মুক্ত টাইপের কথাবার্তা বলি। আমার স্মৃতিশক্তি আবার একটু কম। এজন্য যা মনে চায় তাই লিখে ফেলি। যেদিন রাতে স্বপ্ন দেখি সকালে ঘুম থেকে উঠেই তা মনে থাকতে থাকতে আমার একটা ডায়েরী আছে ওটাতে লিখে ফেলি। Hobby বলতে পারেন। আরও কিছু আছে যেমন- ছবি আঁকা, অবসরে জাফর ইকবাল স্যারের সাইন্স ফিকশন বই পড়া, গল্প লেখা। প্রচুর গল্প ও কবিতা লিখেছি এককালে, খাতার পর খাতা। মা সব পড়তেন আর বলতেন, ‘কি ছাইপাশ লিখিস এইসব’! ওইসব গল্পের খাতা মা ফেলে দিয়েছেন- এখন কোথায় আছে কে জানে? মাঝে মাঝে অনেকে বলে- আমি নাকি ভাল লিখি! মাও বলেছেন। এর একটা ভাল স্বীকৃতি পেয়েছি কলেজে থাকতে। আমার এক বন্ধুর বাবার বন্ধু হলেন জাফর ইকবাল স্যার। বন্ধুর বদৌলতে একদিন দেখা হয় ওনার সাথে। মেলে ধরেছিলাম আমার গল্পের খাতা ওনার সামনে। ভাবছিলুম উনিও হয়ত বলবেন,‘কি ছাইপাশ লিখো এইসব’! না, উনি আমাকে অবাক করে দিয়ে বলেন ‘আদিব, বেশ ভাল হয়েছে লেখাগুলো, চালিয়ে যাও, ভাল করবে সামনে’। এর চেয়ে বড় আর কিছু লাগে নাকি? এটাও আমাকে ভালই উৎসাহ দেয়। আরেকটা বদভ্যাস হল প্রচুর ঘুমাই। একবার ঘুমাইলে আর উঠতে পারিনা। সামনে যদি বোমাও পড়ে তারপরেও মনে হয়, আমার ঘুম ভাঙবেনা। প্রিয় বিষয় হল গণিত, পদার্থবিজ্ঞান আর জ্যোতির্বিদ্যা। ছেলেবেলায় গনিতে খুব কাঁচা ছিলাম। ঐ যে বলেছি লেগে থাকি পিছে, আমি গনিতের পিছে লেগেছিলাম। একবার গনিতে ফেল করি, তো পাস করার জন্য পরের টার্মে লাগে ৯২ নম্বর। ফাইনালে আমি কত পেয়েছিলাম জানেন? ৯৬। সেদিন ক্লাস টিচার আমাকে সবার সামনে দাঁড় করিয়ে বলেছিলেন ‘পরিশ্রম করলে যে ফসল ঘরে তোলা যায়, আদিব তার জ্বলন্ত প্রমাণ’। সেইদিন আমার দুচোখ বেয়ে আনন্দের অশ্রুধারা নেমেছিল। আমার পছন্দের মানুষ হল যে আমাকে ভাল বুঝে, আমার সমালোচনা করে আর আমায় ভালোবাসে। আমার বন্ধু সংখ্যা অনেক, যার সাথে মিশি তাকেই বন্ধু বলে গননা করি। কিন্তু ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে হাতেগোনা কয়জন। তারা আজ অনেক দূরে কিন্তু আমাদের বন্ধুত্তের বন্ধন কিন্তু ভাঙ্ঘেনি।  কয়েকজন আবার আমার আশেপাশেই আছেন, তাদের কথা নাই বললাম।

যখন কলেজে পড়ি তখন মাথায় চেপে বসে এক ভূত, নাম তার String Theory. সাথে সাথে সময় নিয়ে কত যে চিন্তাভাবনা। কলেজে আমার এক প্রিয় প্রফেসর ছিলেন- তার সহায়তায় কতগুলো ভাল ভাল লিংক পেলাম। শুরু হয়ে যায় এটা নিয়ে ‘গো+এষনা’। মাথা খারাপ যাকে বলে, একদিন তো বন্ধু বলেই ফেলল- ‘আরে আদিব তুই তো নোবেল পেয়ে যাবি রে’। ও ওটা ঠাট্টা করে বলে নাই, ওর চোখে দেখেছিলাম Seriously বলেছে ও। নাহ, সময় নষ্ট হয় নাই, কত কিছু শিখলাম। আমি মনে করি, আমি দুনিয়ায় এসেছি শিখতে। জ্ঞান অর্জন করতে। আমি মনে করি আমার মধ্যে আছে Theoretical Power, Practically খুব কমই apply করতে পেরেছি আমি। এই প্রয়োগ কিভাবে করতে হয় এটাই আমি শিখছি আশেপাশের পরিবেশ থেকে, মানুষের কাছ থেকে। নিজেকে সৎচরিত্রবান বলতে পারবে এইরকম খুব কম লোক আছেন এই সমাজে। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, আমি এখন পর্যন্ত সৎভাবে যেমন চলতে চেয়েছি, মহান আল্লাহ আমাকে তার তৌফীক দিয়েছেন। চোখের সামনে অন্যায় হতে দেখলে রুখে দিই তা। খারাপ কাজ একেবারেই দেখতে পারিনা, আশেপাশের অনেক মানুষ আছে যারা আমার চেয়ে ক্ষমতাবান, তারা যখন অন্যায় করে তখন সাধ্যমত প্রতিবাদ করতে চেষ্টা করি। সবসময় মধ্যপন্থা অবলম্বন করি।

প্রিয় ডায়লগ হল ‘নিজেকে আগে ভালবাসতে শিখো, তারপর অন্যকে ভালবেসো’। আমি নিজেকে খুবই ভালোবাসি। পরিবার, বন্ধুবান্ধবদেরও খুব ভালোবাসি। যে সব লোক অপরের অনিষ্ট করে বেরায় তাদের দেখতেই পারি না।  অনেকে আছে মুখে এক কথা ভিতরে ভিতরে খুব খারাপ- এইসব পাবলিকদের তো দেখতেই পারিনা। সমাজে এইসবের সংখ্যাই বেশি। কিছু মানুষ আছে যাদের মুখে লাগাম নাই, যেখানে সেখানে উল্টা পাল্টা বলেই যাচ্ছে, বলার সময় খেয়ালই নাই যে তার আশেপাশের মানুষ তাকে নিয়ে কি ভাবছে? নিজেকে মহান ভেবে দোকানের দোকানদার কিংবা রিকশাওয়ালার সাথে এরা খারাপ ব্যবহার করছে, ওর বিন্দুমাত্র ধারণা নাই যে ওদেরও একটা সত্ত্বা আছে তোমার মত। যাকে পাচ্ছে তাকে ধরে গালিগালাজ করছে, প্যাঁচ লাগাচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমার সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন কেউ পরিবার নিয়ে প্রশ্ন তুলে, তাদের কি মনে থাকেনা যে তারও একটা পরিবার আছে- বাবা-মা আছে, আছে ভাই-বোন। রাস্তায় একটি মেয়ে হেটে গেলেই তার দিকে কুদৃষ্টি দেয়। আমি বলি- ওরে অধম তোর ঘরে কি ছোট বোন নাই, ওর কথা চিন্তা করলেই তো হয়। এইসব কুপ্রবৃত্তি জাগেনা। তোমার বোনকে যখন কেউ এমন করবে, কেউ তোমার মত করে চিন্তা করবে, তখন তোমার কেমন লাগবে? ফেসবুক হল সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম। সেখানেও এইসব চলে। নানান ধরনের পেইজ খোলা হয়েছে সেখানে, নানা ধরনের আপত্তিকর ছবিও আছে। Honestly speaking আমিও তাতে ঢু মারি, দেখি সমাজটা কোনদিকে যাচ্ছে। আমাদের মা-বোন দের নিয়ে যে কি করছে তারা, কল্পনাতীত। সাথে সাথে সমালোচনা করব ঐ সব ফেইক আইডির, যারা মেয়ের ছবি দিয়ে রাখে, কিন্তু বান্দা হলেন ছেলে। ধিক! তাকে। কত শত কমেন্ট পড়ে সেখানে, আমরা কিন্তু পড়ে পড়ে ঠিকই মজা লুটি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি কাজ তা কি সঠিক? তাই পাঠকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, don’t like those pages. আর নিজেকে যে বড় মনে করে সে কিন্তু কখনোই বড় হতে পারবেনা। আমার আশেপাশেই এইসব লোক ছড়িয়ে আছে।

সমাজে যেমন খারাপ আছে, তেমন আছে ভাল লোক- সাদা মনের মানুষ। তারা ভাল কাজ করছেন, করবেন। মানুষের পাশে এসে দারিয়েছেন তারা। অনেকে আছে খুব সহজ সরল, তাদের দিক বিভ্রান্ত করছে ওইসব খারাপ লোক গুলো, demoralize করছে, আবার কখন বাঁশ দিচ্ছে। তারপরেও কিন্তু ভাল যারা তারা পিছপা হয়না। তারাই পারবেন আগামীর সুন্দর কলুসমুক্ত সমাজ গড়তে।

অনেক কথা লিখলাম। অনেক কথা চেপে ছিল এতদিন। বের হয়ে গেল। আর কয়দিন বাঁচব জানিনা, কিন্তু এমন কাজ করে যেতে চাই যাতে ভবিষ্যতে মানুষ আমাকে মনে রাখে। আমি আমার আশেপাশের বন্ধুদের অনেক ভালোবাসি, তাদের জন্যই তো বেঁচে আছি, লেখে যাচ্ছি। আর যতদিন বেঁচে থাকব তাদের ভালোবাসা বুকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

সবশেষে বলি বন্ধুরা সর্বদা নিজেকে ভালবাসবে, মানুষকে ভালবাসবে আর আমাদের এই প্রিয় দেশটাকে ভালবাসবে।

 

The Nature and Aims of Archaeology

Archaeology is partly the discovery of the treasure of the past, partly the careful work of the scientific analyst, partly the exercise of the creative imagination. It is tolling in the sun on an excavation in the Middle East, it is working with living Inuit in the snows of Alaska, and it is investigating the swears of Roman Britain. But it is also the painstaking task of interpretation, so that we come to understand what these things mean for the human story. And it is the conservation of the world’s cultural heritage against looting and careless harm.

Archaeology, then, is both a physical activity out in the field, and an intellectual pursuit in the study or laboratory. That is part of its great attraction. The rich mixture of danger and detective work has also made it the perfect vehicle for fiction writers and film makers, from Agatha Christie with Murder in Mesopotamia to Stephen Spielberg with Indiana Jones. However far from reality such portrayals are, they capture the essential truth that archaeology is an exciting quest- the quest for knowledge about us and our past.

But how does archaeology relate to disciplines such as anthropology and history that are also concerned with the human story? Is archaeology itself a science? And what are the responsibilities of ten archaeologists in today’s world?

Anthropology, at its broadest, is the study of humanity- our physical characteristics as animals and our unique non-biological characteristics that we call culture, Culture in this sense includes what the anthropologist, Edward Taylor, summarized in 1871 as ‘knowledge, belief, art, morals, custom and any other capabilities and habits acquired by man as a member of society’. Anthropologists also use the term ‘culture’ in more restricted sense when they refer to the ‘culture’ of a particular society, meaning the non-biological characteristics unique to that society, which distinguish it from other societies. Anthropology is thus a broad discipline- so broad that it is generally broken down into three smaller disciplines: physical anthropology, cultural anthropology and archaeology.

Physical anthropology or biological anthropology as it is also called, concerns the study of human biological or physical characteristics and how they evolved. Cultural anthropology- or social anthropology-analysis human culture and society. Two of its branches are ethnography (the study of first hand of individual living cultures) and ethnology (which sets out to compare cultures using ethnographic evidence to derive general principles about human society).

Archaeology is the past tense ‘of cultural anthropology’ whereas cultural anthropologist will often base their conclusions on the experience of living within contemporary communities, archaeologists study past societies primarily through their material remains- the buildings, tools, and other artifacts that constitute what is known as the material culture left over from former societies.

Nevertheless, one of the most important tasks for the archaeologist today is to know how to interpret material culture in human terms. How were those pots used? Why are some dwellings round and other square? Here the methods of archaeology and ethnography overlap. Archaeologists in recent decades have developed ‘ethno archaeology’, where like ethnographers; they live among contemporary communities, but with specific purpose of learning how such societies use material culture-how they make their tools and weapons, why they build their settlements where they do, and so on. Moreover, archaeology has an active role to play in the field of conservation. Heritage studies constitutes are developing field, where it is realized that the world’s cultural heritage is a diminishing resource which holds different meanings for different people.

If, then, archaeology deals with past, in what way does it differs from history? In the broadest sense just as archaeology is an aspect of anthropology, so too is it a part of history- where we mean the whole history of humankind from its beginnings over three million years ago. Indeed, for more then ninety-nine percent of that huge span of time, archaeology- the study of past material culture- is the only significant source of information. Conventional historical sources begin only with the introduction of written records around 3,000 BC in Western Asia, and much later in most other parts of the world.

A commonly drawn distinction is between pre-history, i.e. the period before written records- and history in the narrow sense, meaning the study of the past using written evidence. To archaeology, which studies all cultures and periods, whether with or without writing, the distinction between history and pre-history is a convenient dividing line that recognizes the importance of the written word, but in no way lessens the importance of the useful information contained in oral histories.

Since the aim of archaeology is the understanding of human kind, it is a humanistic study, and since it deals with the human past, it is a historical discipline. But it differs from the study of written history in a fundamental way. The material the archaeologist finds doesn’t tell us directly what to think. Historical records make statements, offer opinions and pass judgments. The objects the archaeologists discover, on the other hand, tell us nothing directly in themselves. In this respect, the practice of the archaeologist is rather like that of the scientist, who collects data, conducts experiments, formulates hypothesis, tests the hypothesis against more data, and then, in conclusion, devises a model that seems best to summarize the pattern observed in the data. The archaeologist has to develop a picture of the past, just as the scientist has to coherent view of the natural world.

বস্তু ও পরাবস্তু বিষয়ক ভাবনা (পর্ব ২)

আগেই বলেছি পদার্থবিজ্ঞানে একটা সূত্র আছে- ‘একটি বস্তু একই সঙ্গে দুটি স্থান দখল করতে পারেনা।‘ এর মানে হল একই ধরনের বস্তু বা অভিন্ন একটি বস্তু একই সময়ে দুই জায়গায় থাকতে পারেনা। বস্তুজগতে যে আপনি আছেন, একই সময়ে পরাবস্তুজগতে আপনি থাকতে পারবেন না। এই সূত্রটি খাটছে তাহলে অভিন্ন একটা বস্তুর ক্ষেত্রে, ভিন্ন বস্তুর ক্ষেত্রে নয়। তাহলে কি দাঁড়ায়- বস্তুজগতে যে আমি থাকি আর পরাবস্তুজগতে আপনি আছেন- দুজন কি একই জিনিস না? Same but same characteristics না। সুত্রের ক্ষেত্রে ‘একটি বস্তু’ বলতে একই ধর্মের অভিন্ন বস্তুর কথা বলা হয়েছে।

আগে বলেছিলাম একটা কথা- মাঝে মাঝে অনেকে দাবী করেন তারা অমুক মৃত ব্যাক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন। তখন আলোচনার অবস্থানের নিমিত্তে টা হেলুসিনেশন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন এটা সঠিক বলে মানতে আমি রাজি। কিন্তু কেন? এটা জিজ্ঞেস করার অধিকার আছে আপনার। কারনটা হল ঐ যে সূত্র কি বলে- ‘‘একটি বস্তু একই সঙ্গে দুটি স্থান দখল করতে পারেনা।‘ সূত্র যদি সত্য হয় তাহলে তারা যা দেখেছেন তা সত্য। তারা তো আর তাদের মত কাউকে দেখেননি, দেখেছেন মৃত ব্যাক্তির আত্মা মানে পরাবস্তুকে। এই ঘটনা কখন ঘটে? যখন Parallel Universe এর মত ঘটনা ঘটে। এখন হয়ত আপনার মনে প্রশ্নের উদয় হচ্ছে এটা আবার কি? তাহলে বলি- বস্তুজগত আর পরাবস্তুজগত যখন একই সময়ে সমান্তরালে অবস্থান করে তখন এই জাতীয় ঘতনার উদ্ভব হয়। তখন পরাবস্তুজগতকে বস্তুজগতের সাপেক্ষে Parallel World বলে। আর উভয়ে মিলে তৈরি করে ‘Parallel Universe’। তাদের জগত আর আমাদের জগত সমান্তরালে আসে বলেই আমরা হঠাৎ তাদের দেখা পেয়ে যাই। আগে বলেছিলাম পরাবস্তুজগত হল মাত্রাহীন, তাহলে কিভাবে আমরা তাদের দেখতে পাই? প্রকৃতপক্ষে যখন বস্তু ও পরাবস্তুজগত Parallel এ চলে আসে তখন পরাবস্তুর উপর উপরিপাতিত হয়। সোজাসাপটাভাবে বললে Projection বা প্রতিবিম্বের মত জিনিস create করে। এজন্য মাত্রাহীন পরাবস্তুকে আমরা তখন মাত্রাসহ দেখতে পাই। অবশ্য সবাই পারেনা। পরাবস্তু বস্তুজগতের উপর সমান্তরালে অবস্থানকালে বস্তুজগতের উপর একটা যখন effect field (প্রভাবক্ষেত্র) create করে। এই field এর আশেপাশে যারা থাকে তারাই কেবল পরাবস্তুদের দেখতে পায়। বাইরে যারা থাকে তারা পায় না। আর এজন্যই তাদের কথা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

ধর্মগ্রন্থ হতে পাওয়া angel, djin, fairy ইত্তাদির নাম আমরা শুনেছি। কেউ বিশ্বাস করি, কেউ কেউ করি না! মাঝে মাঝে শোনা যায় জীন কারো উপর আছর করেছে অথবা পরী ধরে নিয়ে গেছে। আসলে main জিনিসটা হল জীন, পরীর সাথে তার Link স্থাপন হয়েছে। জীন বলেন, পরী বলেন সবই হল পরাবস্তু। তারা বস্তুজগতের বাসিন্দা নয়। আর এই কারণে আমরা তাদের দেখি না। বস্তুজগতের বাসিন্দার সাথে পরাবস্তুজগতের বাসিন্দার যোগাযোগের একমাত্র উপায় হল- Parallel Universe এর ঘটনা ঘটা। দেখা যাবে, যে বস্তুর উপর জীনের আছর পড়েছে সে তার effect field এর under এ পড়ে। সোজাভাবে বললে বস্তুর অবস্থান পরাবস্তুর অবস্থানের সমান্তরালে আছে। এ কারণে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটে। প্রভাবিত ব্যাক্তিই কেবল দেখতে পায়, আমরা পাই না।

 

*সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তাধারায় লেখা। এইরকম কিছু আগে কেউ ভেবেছিল কিনা জানিনা কিন্তু আমি মনে করি আমিই সর্বপ্রথম।*

——[Please do not use this writing without my permission]——-

© All rights reserved by
█║▌█║▌║▌║║█║▌║║│█│║▌║││█│║▌║│​█│║
Md. Adib Ibne Yousuf [adib10mist@gmail.com]

This slideshow requires JavaScript.